মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ঐতিহ্য

জারিগান :

জারিগান বাংলার লোকসংস্কৃতির একটি বিশিষ্ট সম্পদ। বাউল গানের পাশাপাশি এ অঞ্চলে দীর্ঘকাল ধরে জারিগান বিশেষ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। মহররমের চাঁদ দেখার রাত থেকে জারিগান ও জারিনৃত্য শুরু হয়।১০ মহররম পর্যন্ত ১০ দিন ধরে এই গান অনুষ্ঠিত হয।

ঝাপন ও মনসার গান :

শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি ঝাপান অনুষ্ঠিত হয়। সাপসহ সাপুড়েরা অন্যান্য সাপুড়েদের সাথে প্রতিযোগিতামূলক ঝাপানে অংশ নিয়ে থাকে।

যাত্রা :

বাংলাদেশের লোকসংস্কৃতির সমৃদ্ধ ভান্ডারে যাত্রা এক অমূল্য সম্পদ। ঐতিহ্যমন্ডিত কোন লোকবিষয়ক নাট্যরূপ দিয়ে তার যে গীতাভিনয় প্রদর্শন করা হয় তাকেই যাত্রা বলা হয়। চুয়াডাঙ্গা সদরউপজেলার একটি যাত্রা দল আছে যার নাম সরোজগঞ্জ যাত্রা ইউনিট (তিতুদহ)। 

গাজীর গান :

লৌকিক আচারসহ গাজীর গান পরিবেশিত হতো। গাজী পীরের বন্দনা ও মাহাত্ম্য প্রচারই গাজীর গানের উদ্দেশ্যে। সন্তান লাভ, রোগ-ব্যধির উপসম, অধিক ফসল উৎপাদন, গরু-বাছুর ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নতি এরুপ মনস্কামনা পুরণার্থে গাজীর গানের পালা দেওয়া হতো।

গাজনের গান :

লোক উৎসবমূলক গাজনের গান চুয়াডাঙ্গা সদরউপজেলার বিভিন্নঅঞ্চলের নিম্নবর্ণের হিন্দু সমাজে প্রচলিত ছিল। এখানো চৈত্র সংক্রান্তিতে তিনদিনব্যাপী গাজন উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

নবান্ন :

নতুন ফসল ঘরে উঠলে অগ্রহায়ণ মাসে ধুমধামের সাথে চুয়াডাঙ্গাসদর উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চলে নবান্ন উৎসব পালিত হয়। ঢেঁকিতে নতুন চাল কুটে, পিঠে পুলি, নারকোলের নাড়ু বানিয়ে পাড়া প্রতিবেশি আত্মীয় স্বজনের সাথে খাওয়া দাওয়া হতো।

বৃষ্টি আবাহন :

যথাসময়ে বৃষ্টি না হলে কৃষিকাজ ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে বিপর্যয় দেখা দেয়। এ থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার বিভিন্ন  এলাকায় ব্যাঙ বিয়ে, বদনা বিয়ে ইত্যাদি অনুষ্ঠান হয়।

হালখাতা :হালখাতা প্রধানত ব্যবসায়ীদের উৎসব। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে চুয়াডাঙ্গা সদরউপজেলার বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা হিসাবের নতুন খাতা খোলে এবং তাদের ক্রেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে মিষ্টি বিতরণ করে।

পয়লা বৈশাখ :

বৈশাখের প্রথম দিন আলু ভর্তা, ডালভর্তা, মাছভাজা দিয়ে পান্তাভাত খাওয়ার রেওয়াজ দেখা যায়। এই দিন সবাই সাধ্যমতো ভাল খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন করে । এতে এই বিশ্বাস কাজ করে যে, বছরের প্রথম দিন ভালো খাওয়া দাওয়া হলে সারা বছরই ভালো খাওয়া হবে।

মেলা :

পয়লা বৈশাখকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা সদরউপজেলার ডিঙ্গেদহসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলের হাট-বাজারে প্রায় অর্ধশতাধিক মেলা বসে। এসব মেলায় বিভিন্ন রকম জিনিসপত্র নানারকম খেলনা আর প্রচুর মিষ্টান্ন বিক্রি হয় এবং প্রচন্ড লোক সমাগম ঘটে। এছাড়া ১লা আষাঢ় থেকে ৭ দিন গড়াইটুপির মেটেরি মেলা, বারুনী এবং গঙ্গাপুজা উপলক্ষে নানা জায়গায় জমজমাট মেলা বসে। গড়াইটুপি মেলায় বাংলাদেশের বহু জেলার লোক মেলায় আগমন ঘটে।

হিজড়া নাচ :

চুয়াডাঙ্গা সদরউপজেলার হিজড়া সম্প্রদায় তাদের জীবিকার পন্থা হিসেবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে নবজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে নাচ গান বাজনা পরিবেশন করে টাকা-পয়সা, চাল আদায় করে থাকে।